গল্প- অবৈধ বিয়ে পর্ব ৩
আমি ছোট বেলা থেকেই খুব সাহসী মেয়ে।আমি অন্ধকার কে ভয় পাইনা।
জীবন কোন চলচিত্র নয় যে বিদ্যুৎ গেল আর আমি ভয়ে কাউলে জড়িয়ে ধরবো...
তা আবার খেজুরকে!
আমার ভয় ভুতে নয়,আমার ভয় মানুষে।
মায়ের উপর রাগ বেড়ে যাচ্ছে। আমাকে সে বাঘ এর মুখে ফেলে গেল।
ছেলে আর বাঘ এক ই।মা হয়ে পারলো কি করে।
ইকবাল ওর পকেট থেকে মোবাইল বের করে আলো জ্বালালো আর আমি তখন উঠে রান্না ঘরে গেলাম মোম খুঁজতে...
সব ঘর অন্ধকার।কবরের মতন লাগছে।আর ভয়ে গলা শুকিয়ে যাচ্ছে।
রান্নাঘরে তাকের উপর হাত দিতেই গরম তরকারীর কড়াই আমার গায়ে পরলো।আমার চিৎকার শুনে ইকবাল ফোন নিয়ে রান্নাঘরে আসলো।
আমি ওনাকে রান্নাঘরে দেখে পুড়ে যাওয়ার ব্যাথা ভুলে গেছি ভয়ে।
ইকবাল: আচ্ছা একটু দেখে শুনে কাজ করা যায়না?
আমার ফোনটা নিয়া আসতেন।
এই নেন এই আলোয় খুঁজুন এখন...
আমি আবার তাকের উপর খুঁজছি।হঠাৎ খেয়াল করলাম রান্না ঘরের দরজার পাশে অনেক লোকের জটলা...
একেক একেকজনের হাতে টর্চ।সবাই আমাদের দিকে মারছে...
এর মাঝেই আমার ফুপাতো ভাই রুবেল আসলো ইকবাল এর পাশে..
ইকবাল: কি হয়েছে ভাই?
রুবেল: আবার জিগাছ কি হইছে?
এখানে বসে নষ্টি ফষ্টি করছ আর জিগাস কি হইছে এই বলেই ইকবাল এর হাত ধরে সামনের রুমে নিয়ে গেল...
আমি: ভাইয়া কি বলো এসব...
রুবেও: ওই তুই চুপ কর।তুই যদি আমার আপন বইন হইছি আমি তোরে আজ খুন করতাম।
মামা আসুক আজ,কি করা লাগে করুম...
যেই মানুষের ভয়টা আমি পেয়েছিলাম ঠিক সেটাই হলো...
আমার ইচ্ছে করছে যদি গায়েফ হয়ে যেতে পারতাম।এই লজ্জা নিয়ে মানুষ কি করে বাঁচতে পারে...
মনে মনে দোয়া কালাম পড়ছি আর কাঁদছি...
আশে-পাশের সব প্রতিবেশী আমাদের বাসায় হাজির।
কেউ বলছে মাইয়াটারে ভালো ভাবছিলাম।এগুলার মধ্যে এতো..
সবাই যে যার মতো ঘটনা বানাচ্ছে।আর আমার দিকে বাজে ইঙ্গিতে তাকাচ্ছে।
১০টা খুন করলেও তাকে যেভাবে ধরে না রাখে, ইকবাল কে তার চেয়েও খারাপভাবে দুপাশ থেকে দুজন ধরে রাখছে।
এতো মানুষ এর ভীড় কাটিয়ে পিঁপড়াও পালাতে পারেনা তারপর তো মানুষ।
অনেকের কথা শুনে বুঝলাম,আমার ফুপাতো ভাই ই সবাইকে ডেকে এনেছে।
আজ আমার বড় ভাই নেই বলে যে কেউ আমার উপর জুলুম চালাতে পারছে...
পাশের বাসার কাকি বলছে আমায়,ওই মাইয়া তোমার মা কই?
যে মহিলা কিনা দু দিন আগেও আমায় মা সম্বোধন করতো সে আজ আমার সাথে এমন করে কথা বলছে..
আমি কোন জবাব দিলাম না...
এর মাঝেই পাশের একজন বললো আরেহ মহিলা মনে হয় মাইয়া দিয়া ব্যবসা করে।
ঠিক মাইয়ারে ছেলের কাছে রেখে ঘর ফাঁকা করে গেছে..
কথাগুলি আমার শরীরে পেরেক বিঁধে দেয়...
পাশের বাসার কাকা: এই এলাকা ভদ্র এলাকা..এখানে এসব চলবেনা।আমাদের ও মেয়ে বউ আছে ঘরে..মানসম্মানের বেপার...
মনে মনে ভাবি আমি কি এমন পাপ করেছিলাম যার শাস্তি আল্লাহ আমায় এতো অপমান দিল।কত মানুষ খারাপ কাজ করে মাথা উঁচু করে ঘুরে বেড়ায় আর আমার দোষ রান্নাঘরে মোম খোঁজা?
একজন বলছে,এই সবার ঘরে বিদ্যুৎ আছে এ ঘরে নাই কেন?
এর মাঝেই আমার ফুপাতো ভাই বলে আরে বুঝেন না,এই বেটা হুজুর মনে হয় আসার সময়ে নিচের মেইনসুইচ বন্ধ করে এসেছে...
সে এই বলেই নিচে গিয়ে মেইন সুইচ অন করলো....
বাবা সুবিধার জন্য নিচে সব বাসার আলাদা আলাদা মেইনসুইচ রেখেছে আর তা বাক্স দিয়ে তালা মারা থাকে।তালা কি করে খুললো!
আমার বুঝতে বাকি নেই এই রুবেল ই মেইন সুইচ অফ করেছে...
আমার ফুপুর সাথে বাবার জমি নিয়ে বিরোধ ছিল বহুদিন।তাই বলে সেই প্রতিশোধ এভাবে নিবে!
এর মাঝেই মা আসলো...
অনেক মানুষ বাসায় দেখে মায়ের মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।আমি মাকে গিয়ে জড়িয়ে ধরলাম।
অনেকক্ষন পর আমার ভয় কিছুটা কমলো।
মা: কি হয়েছে এখানে?এই লুবনা কাঁদছিস কেন?
রুবেল: মামি কই গেছিলেন..
মা: দোকানে,কেন?
পাশের বাসার আন্টি: এমন ই প্রতিদিন যান?
মা: মানে?
রুবেল: মামি এটা একটা ভদ্র এলাকা।আপনার মাইয়ার জন্য কি এলাকাছাড়া হমু?
আমার এক বন্ধু থাকে আপনাদের উপর তলায়..
সে আমায় কল দিয়ে জানালো এ ঘরে খারাপ কাজ চলে।
আমার মামাতো তো বোন বলে ওরা কিছু বলেনায়...
না হলে তো রাস্তায় নামাতো.
মা চুপ করে আছে,মনে হয় তার বলার কিছু নাই।মা হলেও মেয়ে তো অতিরিক্ত সাহস কলিজায় সঞ্চয় নেই।
অন্ধকারে ইকবাল কে দেখিনি।
এখন বিদ্যুৎ এর আলোয় দেখতে পারছি।
মাথা নিচু করে আছে।মনে হচ্ছে ফাঁসির আসামী।
আপাদত নিজেকে ছাড়া কারো প্রতি সহানুভূতি দেখাতে পারছিনা।
রুবেল ইকবালকে ধাক্কা দিয়ে বলছে,ওই বেটা তোর বাড়ি কই।
ইকবাল কিছু বলছেনা।
রুবেল: যাক তুই কবি না আমি কমু?কি করছস তোরা?
ইকবাল আমার মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে কাকি...
এর মাঝেই রুবেল তাকে ধাক্কা দিয়ে বলে একটাও কথা কবিনা তুই থাম।
লজ্জা নাই তোর?
শুনেন মামি,আমি আপনাদের সম্মান করি কিন্তু এখন যা ঘটছে তা মান ইজ্জত এর প্রশ্ন।
যদি শাস্তি না দেয়া হয় তাইলে বাকি সবাই প্রশ্রয় পেয়ে যাবে।
মা: আচ্ছা তোমরা কি দেখছো তা তো বলবা...
মা যে ভয় পেয়েছে তা তার কাপাকাপা কণ্ঠে স্পষ্ট।
রুবেল: আরেহ আমি কি জানি পাশের বাসার আন্টি ওদের খারাপ অবস্থায় ধরছে।
আমি না থাকলে তো ওই বেটারে গন ধোলাই দিয়ে মেরে ফেলত।
রুবেল কে আমার হায়নার মতন ই হিংস্র লাগছে।যে ছেলে এলাকার সব মেয়েকে উতক্ত করে সেই কিনা আজ বিচারক!
এই না হল সমাজ...
কেউ আমার মানসম্মান এর কথা ভাবছেনা সবাই গুনডার কথা বিশ্বাস করে।
আগে জানতাম আপনজন নাকি আপনজনের ক্ষতি করতে ঘরে চোর পাঠায় কিন্তু আমার ঘর যে দিন দুপুরে ডাকাতি হয়ে গেল।
রুবেল: এখন কন আপনে শাস্তি দিবেন না আমি দিমু?
মা বলে কারে শাস্তি দিবা?
আমার জামাইরে?
আমার মেয়ে আর মেয়ের জামাই কি অবস্থায় থাকবে তা তোমাদের দেখার বিষয় না।

Comments
Post a Comment