Posts

Showing posts from February, 2021

তুমিময় অসুখ পর্ব- ১০ (অন্তিম)

Image
  #লেখনীতে -ইশরাত জাহান ফারিয়া #পর্ব -১০ (অন্তিম) ২৬. বান্দরবান থেকে এসেছি কয়েকমাস কেটে গিয়েছে। আমার ভেতর বেড়ে উঠছে ছোট্ট একটা প্রাণ! কতকিছু সহ্য করতে হয়েছে ওর জন্য, এখন শেষ অবধি সব ঠিক থাকলেই হলো। আর অভ্র ভাইও এখন বেশ বুঝদার হয়েছেন। আমার খেয়াল রাখা ছাড়া যেন দুনিয়াতে আর কোনো কাজ নেই। তবে কথা দিয়েছে আমি সুস্থ হয়ে গেলে ওনি নিয়মিত অফিস যাবেন সাথে গ্র ‍ ্যাজুয়েটটাও কমপ্লিট করবেন। সারাক্ষণ কিছু না কিছু খাওয়ানোর ধান্দায় থাকেন ওনি, আর আমিও ওনার কেয়ারে এখনো পর্যন্ত ফিট আছি। মামা-মামানি আর এই ছেলে তিনজন মিলে আমার এতোই খেয়াল রাখছে যেন আমি ঘরের দামি শোপিস! দিদা নিয়মিত নামাজ পড়ে আমাকে এসে দোয়া পড়ে ফুঁ দিবেনই। বড়-মা হবে বলে কথা! সবার কান্ড দেখে রীতিমতো হাসতে হাসতে পাগল হয়ে যাই। আব্বুও এখন ওনাকে ভরসা করেন! সন্ধ্যাবেলা আমি বিছানায় বসে ওনার মোবাইল দেখছিলাম! অভ্র ভাইকে নিয়ে মামু একটু অফিসে গিয়েছে। হঠাৎ করেই পেটব্যথা শুরু হলো, বুঝতে পারলাম না কিসের জন্য এমন হচ্ছে। ক্রমশই ব্যথা বাড়ছে। এদিকে ডেলিভারির ডেটও খুব নিকটে। এই কথাটা মনে আসতেই ভয়ে আমার আত্মা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেলো। তাহলে কি আমার লেবা..র পেই..ন হ...

তুমিময় অসুখ পর্ব- ৯

Image
  #লেখনীতে -ইশরাত জাহান ফারিয়া #পর্ব -৯ ২৩. পাহাড় চূড়ায় বেজে চলেছে ম্রো'দের শেষ বাঁশির সুর। পাহাড় থেকে পাহাড়ে সেই সুর প্রতিধ্বনিত হয়! হতে হতে উড়ে চলে বহুদূর। বহুকাল ধরে আদিবাসীদের এই রেওয়াজ চলে আসছে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে! আজ আনিশা আপুর গায়ে হলুদ, সেজন্য চেনাজানা আদিবাসীরা প্রায় সবাই-ই এসেছে। বাড়ির লনে ছোটখাটো আয়োজন। সেখানে আগুন জ্বালিয়ে গান-বাজনা করা হচ্ছে পাহাড়ি রীতিনীতি মেনে। অন্যদিকে আপুর গায়ে হলুদের আয়োজন। আপুকে একটা সবুজ শাড়ি পড়ানো হয়েছে, সাথে কাঁচা ফুলের গয়না। খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। ইলহাম আর আমি হলুদ শাড়ি। সবাই সাজগোজ,ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত। বাড়ি ভর্তি মেহমান গিজগিজ করছে। আমি অনুষ্ঠানে এটেন্ড করে এক কোণায় বসে বসে আদিবাসীদের নাচগান দেখছি। আম্মুকে বললাম, ঘরে গিয়ে ঘুমাবো। আমাকে যাতে কেউ ডিস্টার্ব না করে। আর ডিস্টার্ব করবেই বা কে? সবাই তো বিজি এখানে, অনেকরাত পর্যন্ত এসব চলবে। আম্মুকে বলে আসার সময় ভাবলাম একটু দেখে আসি আনিশা আপুকে। বারান্দা পেরিয়ে পাশের জঙ্গলটা পার করে ওখানে যেতে হয়। বড় একটা জলপাই গাছের নিচে আসতেই হঠাৎ কে যেন আমার চোখ বেঁধে দিলো। হাত দিয়ে চেপে ধরলো মুখ। আমি ভয়ে চিৎকার ক...

তুমিময় অসুখ পর্ব- ৮

Image
  #লেখনীতে -ইশরাত জাহান ফারিয়া #পর্ব -৮ ২০. আনিশা আপু কোমড়ে হাত দিয়ে সন্দেহী চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। গোলগোল চশমা ভেদ করে বাদামি চোখ মেলে আমার দিকে এভাবে তাকাতে দেখে আমিও ভাবুকের মতো আপুর দিকে তাকিয়ে রইলাম! আপু বললো, ' এভাবে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? কিছু ভাবছিস?' ' হুম।' ' কি?' ' ভাবছি আমি কোথায় আসলাম। বাংলাদেশ নাকি সুইজারল্যান্ড!' আনিশা আপু ভ্রু কুঁচকে বলল, ' এরকম মনে হবার কারণ?' ' তোমাদের এই জায়গাটা, বাড়িটা কত সুন্দর!' ' ভাবাভাবি বাদ দিয়ে ভেতরে আয়।' আমি চারপাশে চোখ বুলিয়ে পা বাড়ালাম সামনে। ছোট্ট দুটো সিঁড়ি বেয়ে বারান্দায় উঠে এলাম। সামনে বিশাল ড্রইংরুম, বাঁ দিকে ডাইনিং রুম। দুটোর স্পেসে আছে রান্নাঘর। আম্মুরা বয়স্ক মহিলাদের সাথে কথা বলছেন, ইলহাম বাচ্চাদের খুব ভালোবাসে। সেজন্য বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলা শুরু করেছে। আমি চাচ্চু আর বড়চাচীকে কুশল বিনিময় করলাম। সবার সাথে কথাবার্তা বললাম, হাউকাউয়ে একসময় বিরক্ত হয়ে গেলাম। মাথাব্যথা হয়ে যাচ্ছিলো। আনিশা আপু আমাকে ওর রুমে নিয়ে গেলো। আমি ফ্রেশ হলাম। বসে বসে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রইলাম। কি সুন্...