গল্প- অবৈধ বিয়ে পর্ব ৭
সমূদ্রের তীরে ইকবাল বসে আছে।আর ওর বুকে মাথা রেখে আমি..
ঠান্ডা বাতাস দিচ্ছে সাথে আমার চুলের ঝাঁপটায় ইকবাল এলোমেলো হচ্ছে..
শীতল শরীর ক্রমানয়েই আরো শীতল হচ্ছে।আমি ইকবাল কে শক্ত করে ধরলাম।ওর উষ্ণ নিঃশ্বাস আমার চুল ভেদ করে ঘাড়ে লাগছে ...
ওর খোঁচা খোঁচা দাড়ি আমার গালকে স্পর্শ করলো তাতেই আমার ঘুম ভেঙে গেল..
চোখ খুলতে না খুলতেই আমি টের পেলাম ওর দাড়ি ঠিক ই আমার গালে স্পর্শ করছে।আমি ওকে ঠিক ই শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছি।আর ইকবাল আমার নাম ধরে ডাকছে বার.বার..
ঠিক এভাবেই স্বপ্নেও ডেকেছিল।ইকবাল কে ধাক্কা দিলাম।
ও হতভম্ব হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে..
আমি: এসব কি?এই না আমি আপনাকে বিশ্বাস করে ছিলাম..
এই বলে আমি কেঁদে দিলাম..
ইকবাল চুপ করে আছে..
আমি: আসলে পুরুষ আর হিংস্র পশুকে আস্থা করতে নেই।আমার দূর্বলতার দাম এভাবে দিলেন?
তারচেয়ে আমায় মেরে ফেলতেন?
ইকবাল: কি বলছো?
আমি: এর মাঝে তুমি করে বলা শুরু করছেন?ছিঃ.. ছিঃ
ইকবাল: আমি আপনাকে যেই ডাকতে গেলাম যে নামাজ পড়ার সময় হয়েছে আর আপনি সেই আমায় জড়িয়ে ধরলেন তাতে আমার কি দোষ...
আমি!জড়িয়ে ধরেছিলাম!তা তো স্বপ্নে ধরেছিলাম কিন্তু বাস্তবে কি করে..!
আমি: ও..আসলে রাতে জলমানব এর নায়ক কে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়েছিলাম..
ইকবাল: তো স্বপ্নে নায়ক কে জড়িয়ে ধরেছিলেন বুঝি?
লজ্জা লাগছে খুব...বলা উচিৎ হবেনা যে আমি নায়ক হিসেবে তাকেই দেখেছি তাহলে খেজুর এর ভাব বেড়ে যাবে..
আমি: নায়ক পাব কই!দেখি ইয়া বড় ডলফিন মাছ কে শিকার করেছি আমি।
ইকবাল: হা হা হা।
আমি: হাসির কি বললাম?
ইকবাল: না ঘুম ভেঙে উঠে দেখেন পুঁটি মাছ শিকার করছেন?
আমি: না বিড়াল।
ইকবাল চোখ বড় করে বলছে,এই মেয়ে স্যার কে বিড়াল বলা পাপ..
আমি: স্যার কে না বরকে বলছি বলেই আমি থতমত খেলাম।
ইকবাল কথা এড়িয়ে নিয়ে বললো নামাজ এর সময় পাবেন না কিন্তু।
আমি: হুম উঠি।
ইকবাল: আপনি চুলে কি আতর দেন?
আমি ইকবাল এর দিকে রহস্য নিয়ে তাকিয়ে বললাম আতর কেউ চুলে দেয়?
ইকবাল: চুলের ঘ্রান অনেক সুন্দর। এমন ঘ্রান এর আতর খুঁজি আমি, কিন্তু পাইনা।
আমি: একটা কাজ করেন..
ইকবাল: কি?
আমি:আমায় মেশিন এ দিয়ে আতর বানিয়ে নিন।আতর এর নাম লুবনা আতর।
ইকবাল: হুম ভালো আইডিয়া।
আমি রাগ হয়ে বললাম, কি?বললাম আর উনি রাজি।
যান মসজিদ এ,আমি একজন কে নামাজ পড়তে উঠাতে যাই।
ইকবাল: কাকে?
আমি দরজার কাছে গিয়ে পিছন ফিরে ইকবাল এর দিকে তাকিয়ে হাসি দিয়ে বললাম আপনার নানী কে..
ইকবাল হাসি দিয়ে বলে আপনি পারেন ও।
ইদানীং এই নতুন পরিবেশ আমার ভালো লাগছে।ভালো লাগে নামাজ পড়াতে উঠাতে।
আমার ১৭বছর বয়সে আমি এমন কখনো নামাজ পড়াতে উঠি নি।
দুপুরবেলা ইকবাল আবারো আমায় খাবার এনে দিল।
আমি জিজ্ঞেস করলাম টাকা পেলেন কই?
বললো মা দিয়েছে।আপনি তো আবার লজ্জায় খেতে পারেন না তাই খাবার রুমের দরজা বন্ধ করে খান...
আমি দরজা না বন্ধ করে খাচ্ছি আর ইয়ারফোন এ গান শুনছি।
এর মাঝে নানী রুম এ আসলো।আমি টের পেয়েই খাবার লুকিয়ে ফেললাম।
আমি: নানী বসেন।
নানী : ওই তার দিয়া কি শুন সারাদিন?
আমি: আপনি শুনবেন?ভালো লাগবে বলে ওনার কানে দিলাম।উনি কিছুক্ষন চুপচাপ করে চিৎকার দিল ওরে আল্লাহরে আমার কান গেলরে...
আমি কানে কিছু শুনিনা..
এক লাফ দিয়েই ইকবাল এর মায়ের কাছে গেল।ওনার চেঁচানো শুনে ইকবাল, ইতি ঘরের সবাই এসে পরেছে।
ইকবাল: কি হয়েছে নানী?
নানী : ইকবালরে আমার কান গেল..আমি কিছুই শুনিনা এখন।
ইকবাল: কি হয়েছে বলবা তো?
নানী : তর বউ আমার কানে কি যেন তার লাগাইয়া দিছে..ঠাডা পরার মতন শব্দ আসে তা দিয়া।আমার কান গেল।
আমি: আপনি কানে না শুনলে এসব প্রশ্নের উত্তর কি করে দেন?
নানী : দেখ দেখ আবার মুখে মুখে কথা কয়।
ইকবাল: দেখুন লুবনা নানী এ যুগ এর নয় তাকে আপনি ওসব না দিলেও পারতেন।
নানী : এতো মহব্বত দিয়া কতা কইছ না তো।তোর নানায় আমায় মারতো। একটু পুরুষ হ।তোর নানায় জ্যাতা থাকতে কি আমার ভুতে ভয় ছিল?
আমারে রাত ৩টায় ও লড়ানি দিত।আমি বাগান-কবরস্থান এ গিয়া পলাইতাম।
ইকবাল কিছু বলছেনা...
সবাই ই নানী কে নিয়ে ব্যস্ত।আমার কথা বা আমাকে বোঝার মতন কেউ নাই।
আমি আমার রুমে চলে আসলাম।আমার ঘৃনায় কাঁন্না আসছে বার বার।বাকি কারো কথায় ঘৃনা লাগেনা।ঘৃনা কেবল ইকবাল এর কথায়...
কিছুক্ষন পর নানী আসলো..
আমায় বলে: বউ মন সংসার এ দেও।গান এ দিও না।
আমি: আপনার স্বামী আপনাকে মারতেন?
নানী : হ কত মাইর খাইছি।মারতো আবার সোহাগ করতো...
যখন মারতো তহন আমি তার রাগ তার জামাকাপড় এর উপর ঝারাইতাম।
আমি: জামাকাপড়?
নানী : হুম তার জামাকাপড় মাটিতে ফালাইয়া পা দিয়া লাথি দিতাম মনে মনে ভাবতাম তারে লাথি মারি।
আমি: উনি দেখতেন না?
নানী : না সে আসার আগেই জামাকাপড় আবার গুছিয়ে রাখতাম।
আমি:আসলে আপনার স্বামি দূর্বল ছিল।ওনার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে এখন সে বেঁচে থাকতো আর আপনি কবরে।যে কাজ করেন তাতে মারার কাজ ই করেন।
নানী চিৎকার দিয়ে ইকবাল কে ডাক দিল।
ইকবাল : কি হয়েছে?
নানী : তুই বিচার কর..এই মাইয়া আমারে মারতে চায়।
আমি: ও আমার বিচার করার কে?
ওরে আমি আমার কিছু মানি না।
আমি থাকবো না এখানে।
ইকবাল: নানী একটু শান্তি দেও আমারে।আমারে বাঁচতে দেও তোমরা।
কথাগুলি আমাকেই শুনাচ্ছে।
আমি মাকে কল দিলাম। মা-বাবা আসলো বিকালে।আমি চলে যাব।
ইকবাল একবার ও আমায় রাখতে চাচ্ছেনা।
মা-বাবা বাড়ির পরিবেশ দেখে এখন আর আমার বিয়ে নিয়ে খুশি নন।তারা পারলে আমায় আজ ই ডিভোর্স দেয়ায়।ইকবাল এর সাথে কথাও বলছেনা আমার মা।
বাসা থেকে বের হবার সময় সবাই এসেছে শুধু ইকবাল কে দেখছিনা।
ওকে খুঁজছি আমি কিন্তু ও নেই।
একবার যদি আমার হাত ধরে বলতো যেও না আমি থেকে যেতাম।
ইকবাল এর নানীর কাছে গিয়ে শব্দ না করেই মুখ নাড়িয়ে বললাম ভালো থাকবেন।
নানী : কি কও?
আমি আবারো একই ভাবে বললাম।
উনি কেঁদে কেঁদে বলে উঠলো এই আমি এখন সত্যি সত্যিই শুনিনা।
ইতি: নানী তার মানে তুমি অভিনয় করছিলা?
আমি: বাদ দেও।আসলে আমার জীবন ই অভিনয়ের মঞ্চ।
বাবা-মা উঠোনে দাড়িয়ে আছে।
আমি বাসা থেকে নামার সময় ইকবাল এর বাবা বললো মা রাগ অভিমান সবার ই হয় তাই বলে চলে যাবা কেন?
আমি: বাবা আমি এমনিতেই যাচ্ছি। ক্লাস মিস যাচ্ছে।
এই প্রথম আমার বাবাকে ছাড়াও কাউকে বাবা বললাম।
মা: তাহলে ইকবাল কেও নিয়ে যাও?
আমার মা: না সে তার সময় মত যাবে।
ইতি: ভাবি তুমি আজ যেওনা।
ইকবাল কি কপুর এর মতন উবে গেল!দেখছিনা ওকে...
আমি আমার বাসায় চলে আসলাম।মন একবার বলে আমি ভুল করছি তো,আমি ১০বার বলি না আমি ই ঠিক..
ইকবাল কে মনে পরছে।বর হিসেবে না হলেও বন্ধু হিসেবে ও।খুব মায়া ধরে গেছে।
আমার এ মায়া কাটিয়ে উঠতে হবে।
একবার কল দিব ভাবছি কিন্তু আমার কাছে ইকবাল এর নম্বর টা ও নেই।
মায়ের কাছে চাইতেও লজ্জা লাগছে।
আমি ই মনে হয় প্রথম বউ যার কাছে বর এর মোবাইল নম্বর নেই।
সারারাত শুধু আমার সাথে ঘটে যাওয়া দিনগুলির কথা ভাবছি।বার বার ইকবাল এর সেই মুখ আমার চোখে ভেসে আসছে।
ঘুমে চোখ লেগে গেল,ঘুম ভাঙলো আযান এর শব্দে।
আমি উঠেই পাশে ফিরে চোখ বন্ধ করে ডাকছি,ইকবাল নামাজ এর সময় হয়ে গেছে তো..ওঠো..
তাকিয়ে দেখি কেউ নেই।আমি একা..
তাকিয়ে আমার কিছুসময় লাগলো মনে করতে আমার জায়গাটা।ইকবাল কে আর জাগানো হবেনা আমার।এটা ভাবলেই চোখের পাতা ভারি হয়ে আসে।
এখন আমি ঠিক ই নামাজ পড়ি নিয়ম করে শুধু সেই মানুষ নেই যে আমায় শিখালো..
আসলে ধার্মিক মানুষ হলো ঝর্নার মতন।তাদের সংস্পর্শে যে কোন ঘোলা পানি গেলে তা পরিষ্কার -স্বচ্ছ হয়ে যায়।
আমি হয়তো সেই ঝর্না থেকে প্রবাহিত হয়ে স্রতে অন্যদিকে চলে যাচ্ছি। সে ঝর্নার খোঁজ হয়তো আমার ইহকালে মিলবেনা..
শুনছি মা কার সাথে যেন খুব খারাপ ভাবে কথা বলছে।
যেই শুনলাম সে বলছে আমার মেয়েকে আর তোমার সাথে দিব না আমার বুঝতে বাকি রইলনা যে ওটা ইকবাল।
আমি দরজার আড়ালে গিয়ে শুনছি মায়ের কথা।খুব মন চাইছে মায়ের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে শুনি ওর কথা।
মা বলছে খুব তাড়াতাড়ি সব কিছু থেকে মুক্তি পাবে...আর কল দিবেনা বলে ফোন রেখে দিল।
আমি ইদানীং আর হাসতে পারিনা।একা ঘরেই বসে থাকি।
মা আসলো আমার রুমে।
আমি: মা রুবেল কে দেখলাম না আসার পর একবার ও?
মা: আরে তুই তো জানিস না।সে ছেলে তো জেলে?
আমি: কেন?
মা: জামিল এর বউ এর ঘরে রাতে চোরের মতন ঢুকে বসে ছিল।
এলাকার মানুষ ধরে মেরে জেলে দিছে।
ভাবছি এই সেই মানুষ যে এককালে আমার বিচারক ছিল।যার জন্য আমার জীবন এলোমেলো হয়ে গেছে।
আচ্ছা কিছু কিছু এলোমেলো জিনিসের মাঝেও হয়তো কিছু মূল্যবান জিনিস লুকিয়ে থাকে..
মা: কি ভাবছিস?
আমি: না কিছুনা।ইকবাল কল দিয়েছিল?
মা: ওর কথা বাদ দে।কি নোংড়া পরিবেশে থাকে।
আমি: না জেনে বিয়ে দিয়েছিলে কেন মা?
মা: আমি কি বুঝেছি ওমন ছেলে ওই পরিবেশ এর।তুই চিন্তা করিসনা আমি যেমন বিয়ে দিয়েছি আমি ই এর সমাধান করবো।
আমি: সমাধান?এখন সমাজ কিছু বলবেনা?
মা: বললেও বেশিদিন না।ভুল থেকেই শিখেছি।
আসলে কিছু মানুষ শুধু জন্মই নেই কিন্তু তাদের চালনাকাঠি থাকে অন্য কারো হাতে।
তারা চাইলে গড়বে আবার দুমড়েমুছরে দিবে।
যাক তাতে ইকবাল ও হয়তো শান্তিতে থাকবে।ও তো বাঁচতেই চায়।
বলতে বলতে ৪মাস কেটে গেল।কারো সাথেই আমার যোগাযোগ নেই।ইকবাল প্রায় ই মাকে কল দেয়, মা হুমকি দেয় বাসায় আসতে বারন করে।আর ইকবাল ও আর আসেনা।
২৩শে নভেম্বর..মা সকালে উঠেই দেখছি খুব খুশি।
আমার রুমে এসে আমার মাথা তার বুকে চেপে ধরে বলছে লুবনা অপেক্ষার দিন শেষ..
আমি তার এতো খুশির কারন বুঝছিনা।শুধু বুকের ভিতর চিনচিন ব্যথা অনুভব হচ্ছে।
শুনছি কোন ভাঙার শব্দ।আমি জানি আমি আবারো কিছু হারাতে যাচ্ছি..
আমি: কি মা?
মা: কাল তোদের ডিভোর্স এর ডেট পরেছে।
আমি এই ভয় ই পেয়েছিলাম।এতদিন কিছুর আশায় বেঁচে ছিলাম এখন সে আশার ও মৃত্যু হতে চলেছে।
মা তার ফোনটা হাতে দিয়ে বললো নে তুই ই ইকবাল কে জানা।
এই প্রথম আমি ওর সাথে ফোনে কথা বলবো হয়তো এই শেষ।
কল রিসিভ করেই সালাম দিল।
আমি উত্তর নেয়ায় আমার কণ্ঠ বুঝে ফেললো।
ইকবাল: লুবনা কেমন আছো?
আমি এর উত্তর দিলাম না। আসলে দিতে পারছিলাম না।আমি কেমন আছি তা আমি নিজেও জানিনা।
আমি: কাল ১০টার দিকে এডভোকেট মন্সুর আলম এর চেম্বার এ আসবেন।মা কে কল দিবেন মা ঠিকানা জানিয়ে দিবে।
ইকবাল: কেন?
আমি: উকিল এর কাছে কেন যায়! ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে।আমার আর আপনার মাঝে আছে এক অবৈধ বিয়ের ঝামেলা তা থেকেই মুক্তি।যদিওবা এ বিয়ের মুক্তি করতে দলিল লাগেনা।যেখানে পরাধীন এর বেপার নেই সেখানে মুক্তি ও লাগেনা।
ইকবাল চুপ করে আছে..
আমি: কি রাখবো?
ইকবাল: আমি বিয়ে করার সময় ও নিজের কথা ভাবিনি।আজ ও ভাববো না।নিজের জন্য কিছুই চাওয়ার নেই লুবনা।
শুধু একটি কথাই,কারো কথা নিজের মুখে বসানো যায় কিন্তু কারো ইচ্ছে নিজের মন এর উপর চাপিয়ে দিলে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।আমি সেই দীর্ঘনিঃশ্বাস নিয়ে কাটিয়ে দিতে পারবো। কিন্তু আশা করি তুমি সুস্থ ভাবেই নিশ্বাস নিবে।
ওর গলার স্বর পাল্টে যাচ্ছে ক্রমাগত।কাঁপা গলায় কথা বলা যায় ঠিক ই তবে কথার মাঝে বেশ ফারাক।
আমি: আপনি ও ভালো থাকবেন আসমা কে নিয়ে।মানাবে খুব।বউ একেবারে বউ এর মতন ই।
ইকবাল: মানুষ ভুল অনেকবার ই করে তবে ভুল থেকে শিক্ষা একবার নেয়া হলে আর করেনা।আমার শিক্ষা কি এখনো নেয়া হয়নি?
আমি: আচ্ছা আমি রাখি।
ওর কথায় আমি দূর্বল হয়ে যাচ্ছি। আমি ওর কাছে হারতে চাইনা।নিজের কাছে হারি বার বার তবুও ওর কাছে নয়।
দুপুরে ও যে খাতায় গনিত কষেছিল আমি সে খাতার ঘ্রান নিচ্ছি।এখনো সেই আতর এর ঘ্রান তবে তা স্পষ্ট নয়।ইকবাল এর মতন ধীরে ধীরে ঘ্রান ও দূরে সরে যাচ্ছে..
খাতা টা কাছে নিয়ে বিছানায় শুলাম।
কিছুক্ষন এর মাঝেই কলিংবেল এর শব্দ।আমি দরজা খুলতেই দেখি ইকবাল আর আসমা।আসমা লাল শাড়ি পরা আর ইকবাল পিছনে।কি মলীন মুখ..
আসমার হাতে কাগজ।আমায় দিয়ে বললো এটায় সিগনেচার করে দেও।
আমি বললাম কি এটা।
আসমা হেসে বললো এটা তালাক এর দলিল।
ইকবাল চুপ হয়ে দাড়িয়ে আছে।কিছু বলছেনা।
আর আসমা হাসছে..কি ভয়ানক সে হাসি...
হাসির শব্দে আমার ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে তাকিয়ে দেখি বিকাল হয়ে গেছে।
আমি ঘুমিয়ে পরেছিলাম।
আমার মন কিছুতেই স্থীর হচ্ছেনা।কাল কি এভাবেই আসমা হাসবে!
আমি কিছুতেই তা মানতে পারবোনা..
মা ও দেখছি ঘুমাচ্ছে।আর আমি মাকে না বলেই বাসার পোষাক পরে রওনা দিলাম ইকবাল এর বাড়িতে..
বার বার ভয় হচ্ছে গিয়ে হয়তো দেখবো আসমাকে বউ সাজে।
বার বার সেই স্বপ্নের কথা মনে পরছে।
বাস থেকে নামলাম রাত ৮টায়। চারদিকে অন্ধকার।ভয় করছে খুব তার ভিতরে মনের ভিতর কিছুক্ষন যাবত ই কিছু শেষ হবার আভাস পাচ্ছি।
দূরে একজন কে দেখলাম লাইট নিয়ে আসতে।
কাছে আসতেই দেখলাম ইকবাল এর বাবা।
আমি বাবার পায়ে পরে কেঁদে দিলাম।
বাবা ও কাঁদছে।
আমায় তুলে বললো মা,সংসার খুব কঠিন বেপার এ নিয়ে খেলিস না।ইকবাল, তুই যাবার পর থেকে কারো সাথে কথা বলেনা।আমার ইচ্ছে ছিল ওকে শিক্ষিত বানাবো কিন্তু এই ধাক্কা ও নিতে পারবেনা।
আমি: বাবা এর পর আর এমন কিছু হবেনা।
দুজন মিলে বাড়িতে গেলাম।মা-ইতি সবাই আমায় দেখে খুশি। কিন্তু ইকবাল কে দেখছিনা..
আমি: ইতি তোমার ভাইয়া কই?
ইতি:রুমে আছে।তুমি যাও
আমি রুমের সামনে গিয়ে দেখি দরজা দেয়া।
নক করলাম।কোন সাড়া নেই।এখনো কি ৩০মিনিট পর দরজা খুলবে নাকি!!
আবার নক করলাম।
ওপাশ থেকে বলছে: আমি পরে খাব তোমরা খেয়ে নেও।
উমহ! ওনাকে নাকি খেতে ডাকি..
আমি আবারো ধাক্কা দিলাম দরজায়।
ও খুলে আমায় দেখে তাকিয়ে আছে অবাক হয়ে।
মনে হচ্ছে মাথায় বাজ পরেছে...
আমি: দেখি সরেন সামনে থেকে।আমি রুমে যাব।
ইকবাল: আপনি?
আমি: হুম গল্পের শেষ টা শুনতে এসেছি।
ইকবাল: তারপর আবার চলে যাবেন..?
বেচারার চোখ লাল হয়ে আছে..
আমি: হুম যাব। না হলে আসমাকে বিয়ে করবেন কি করে?
বিছানায় দেখি আমার গামছা পরে আছে।
আমি: গামছা এখানে কেন?
ইকবাল: চুলের আতর এর ঘ্রান নিচ্ছিলাম।গামছায় লেগে আছে।
আমি ওর কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলছি,আতর টা কি খুব পছন্দ হয়েছে?
ইকবাল: হুম।
আমি: আমার কাছে আছে।।গায়ে দিবেন?
ইকবাল : দিন।
আমি ওকে জড়িয়ে ধরে বললাম এই যে আতর দিয়ে দিচ্ছি।এখন থেকে যখন লাগবে তখন ই চাইবেন।
ইকবাল ও আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলছে,আল্লাহ এ আতর শুধু আমার জন্যই সৃষ্টি করেছেন।
আমি: আমার খুব ক্ষুধা লাগছে চলুন খেয়ে আসি।দীর্ঘ চার মাসের ক্ষুধার্ত আমি।
ইকবাল: চলুন একসাথে খাই।
বাসার সবাই মিলে রাতের খাবার খেলাম।
রুমে গিয়ে শুয়ে পরলাম।ইকবাল আসছেনা।
মাকে কল দিয়ে জানিয়ে দিলাম যে আমার পক্ষে এর বিপরীত কিছুই করা সম্ভব নয়।
অপেক্ষা করতে করতে শুয়ে পরলাম।মনে হয় রাতেও মসজিদ এ গিয়ে ঘুমাবে।এই খেজুর রা এতো বেরসিক কেমনে হয়!
বিরক্তিকর...
নভেম্বর এর শেষ দিক।গ্রামে প্রচুর ঠান্ডা পরে এই সময়।বিছানায় শুয়ে ঠান্ডায় জমে যাচ্ছি।
এমন সময় টের পেলাম...ইকবাল এর আসার।
ওর আসার শব্দ পেয়ে আমি ঘুমানোর ভান ধরলাম..
ও এসে আমার পাশে খাট এর সাথে হেলান দিয়ে শুয়ে আছে।
আর আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
বিরক্তি লাগছে..এভাবে তাকিয়ে থাকলে আমার চোখ কখন যেন খুলে যায়।
ইকবাল ওর হাত টা আমার গালে দিয়ে বলছে,গল্পের শেষ টা না শুনেই ঘুম?
আমি: উফ! হাত খুব ঠান্ডা।
ও হাত টা সরিয়ে নিল ভয়ে।
আমি ওর বুকে মাথা দিয়ে বললাম পুরো বিছানাটাই ঠান্ডা...
ও হেসে আমায় আরো শক্ত করে ধরলো..
আমি: আচ্ছা ছাড়ুন আমায়।
ইকবাল: কেন?
আমি: আমি কবুল পড়ে বিয়ে করিনি।পরমহিলাকে ছুঁতে নেই।
ইকবাল: পরমহিলা কি?
আমি: কেন পরপুরুষ এর স্ত্রী লিঙ্গ।
ইকবাল: হা হা হা।জানেন আমি বিয়ে পড়াতে জানি।
আমি: তাই?
ইকবাল: হুম।আসুন আমার বুকে আসুন।আমি বিয়ের দোয়া পড়ছি..
আমি ওর বুকে মাথা রাখলাম।
ও দোয়া পড়া শেষ করে বলছে বলুন বউ কবুল..
আমি: কবুল...কবুল..কবুল..
এক একবার কবুল এর সাথে সাথে ওর নিকটে আসা প্রবল হলো আর কমে যাচ্ছে শীতের মাত্রা।
সব বিয়ে শুরুতেই মনের বৈধতা দিয়ে হয়না।কিছু কিছু বিয়ে করার পর সম্পর্ক প্রবল শক্ত হয়ে যায়। বিয়ের এমন ই এক গুন আছে...যা খুব সহজে অবৈধতাকে বৈধ এর রূপ দিতে পারে।

Comments
Post a Comment