গল্প- অবৈধ বিয়ে পর্ব ২

 বই নিয়ে নিচের তলায় গেলাম।দরজা নক করলাম..

খেজুর আজ সাথে সাথেই দরজা খুলছে..
আবারো সে সালাম দিল।
কি অদ্ভুত সে ভুলেই যায় সে আমার শিক্ষক..
আমি: এই নিন আপনার বই..
ইকবাল: বই এর নাম দেখেছিলেন?
আমি: মানে?
ইকবাল: না কিছুনা...
তার মানে আমি যে আড় চোখে দেখেছি তা উনি খেয়াল করেছেন..
আমি: আচ্ছা আমি আসি..
আসলে যতটা হাদা ভাবি উনি তা নন।সব বুঝেও না বোঝার ভান করে।
আচ্ছা উনি আবার জঙ্গি নয় তো..
বাবা আসলে মানুষ না বুঝেই বাসা ভাড়া দেয়।এসব রহস্যজনক মানুষ খুব ভয়ানক হতেই পারে...
আমার মনে হয় উনি ঘরের মধ্যে বোমা বানায়।তাই দরজা খুলতে দেড়ি হয়..
বাসায় যাবার পর মা জিজ্ঞেস করলো কই গিয়েছিলি..
আমি: জঙ্গির বাসায়..
মা হা করে তাকিয়ে আছে।
আমি ফিসফিস করে বললাম মা আমার মনে হয় ইকবাল জঙ্গি..
মা ভীত হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলছে কি বলিস?
তুই কি ওর হাতে বন্দুক-টন্দুক দেখছিস?
আমি: না তা দেখিনাই তবে চেষ্টা করলে দেখতে পারবো.তাছাড়া আমরা তার বাসার কাউকেই আসতে দেখিনি।
এর মাঝেই বাবা আসলো..
আমায় জিজ্ঞেস করতেছে,কি লুবনা পড়া কেমন লাগছে?
এর মাঝেই মা উঠে বললো,রাখো তোমার পড়া, তুমি দেখে শুনে লোক উঠাবানা বাসায়।
বাবা: কেন কি হয়েছে?
মা: ছেলেকে আমার সুবিধার মনে হয়না...
বাবা হাসি দিয়ে ভিতরের কক্ষে চলে গেল।
মা আমার পাশে এসে বলে তোর বাবা হাসে হাসুক,সে গুরুত্ব না দিলেও আমি ওই ছেলেরে বাসা থেকে বের করেই ছাড়বো..
আমি: কিভাবে?
মা: পানি দিবনা।ওর বাসার মেইনসুইচ অফ করে রাখবো..ও নিজেই বাসা ছেড়ে দিবে।
আমি: মা তাতে যদি সে আমাদের উপর রেগে বোমা মারে..
মায়ের মুখটা এমন ভাবে শুকিয়ে গেল মনে হচ্ছে আমরা ১৯৭১সালের যুদ্ধে অবস্থান করছি..
আর আমাদের আশে পাশে ইকবাল হল পাক হানাদার বাহিনীর সদস্য।
আমি হেসে বললাম মা এতো চিন্তার কিছু নাই।সে জঙ্গি হলেও তোমার কিছু করবেনা।তুমি যে মজার মজার খাবার দেও তাকে, তাতে সে কাউরে বাঁচিয়ে রাখলে তা হবা তুমি..
মা পাশের রুমে গেল আর বললো,জঙ্গিদের আবার মা-বাবা!
পরের দিন সে ঠিক সময়ে হাজির।
মা মাঝে মাঝেই আমাদের পড়ার কক্ষে ঘুরে যায়। আমি জানি মা এখনো ইকবাল কে সন্দেহ করছে।
ইকবাল যাতে বুঝতে না পারে তার জন্য মা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বাহানা নিয়ে আসে।এই যেমন লুবনা আমার ব্যাগ টা দেখছিস??
আর ইকবাল সেই নিজের মতন করিয়ে একের পর এক গনিত কষে যাচ্ছে।
পরের দিন মা বললো ইকবাল এর বাসায় খাবার নিয়ে যাবে।
আমাকে পড়াতে আসার পর আমি আর খাবার নিয়ে যাইনা।মা ই নিয়ে যায়...
মা বললো আজ তার সাথে আমাকে ও যেতে। আমরা বাহানা করে ঘরের ভিতর গিয়ে দেখবো আসলে বোমা আছে কিনা..
বা কোন প্রমান..
নিজেদের কেমন গোয়েন্দা -গোয়েন্দা লাগছে...
মা সামনে খিচুড়ি নিয়ে আর আমি পিছনে...
মা শিখিয়ে দিল যে সে ভিতরে যাবার সাথে সাথে আমাকেও যেতে।
মা ইকবাল এর সাথে কথা বলবে আর আমি এদিক -সেদিক প্রমান খুঁজবো।
মা এখানে ডিবির প্রধান আমি তার চামচা আরকি...
ইকবাল এর ঘরের সামনেই গিয়ে দেখি দরজা খোলা...
মা বললো: লুবনা বাসা রেখে পালালো নাকি?
আমি: মা হতেও পারে।আমরা সন্দেহ করেছি বুঝে গেছে।
আচ্ছা এটা আবার ফাঁদ নাতো..?
আমাদের খালি হাতে ভিতরে যাওয়া কি ঠিক হবে?
মা: খালি হাত কই?হাতে তো খিচুড়ি আছে।
আমি: উফ!হাতে ছুড়ি বা গুলি নিয়া আসিনাই তো..
মা: তা পাবো কই,ইস! বাসায় দা -বটি ছিল তো..
আস্তে আস্তে দুজন ভিতরে গেলাম।আমার জঙ্গির উপর ভরসার চেয়েও ভরসা ছিল ইকবাল এর উপর।সে ক্ষতি করার মতন না।
এই ভেবে আমি আগে ঢুকলাম..
গিয়ে দেখি বিছানায় কাথা গায়ে শুয়ে আছে।
এই অবেলায় শুয়ে আছে?
মা ঢাকলো কোন সাড়া নেই..
আমি : মা আত্মঘাতী হলো নাকি?
মা: চুপ থাকতো।সে গিয়ে ইকবাল এর পাশে বসে ডাকছে।
আমি এই ফাকে খাট এর নিচে, টেবিল এর উপর...আর আছে এক পুরাতন আলনা তাতে তন্ন তন্ন করে খুঁজলাম।
চারদিকে খোঁজার পর দু একটা তেলাপোকার ডিম ছাড়া কিছুই জুটে নাই..
কিছুক্ষন পর দেখি মা ইকবাল এর মাথায় পট্টি দিচ্ছে।
আর বাবা বাবা করে সম্মোধন করছে।
কি হলো বুঝলাম না।এই লোক জাদু করতে জানে নাকি!
আমি: মা চলো যাই।
মা: তুই যা আমি পরে আসবো।
আমি: কি বলো?এখানে থাকা ঠিক হবেনা।
মা: তুই দেখছিসনা ছেলেটার জ্বর।
জ্বরের ঘোরে মাকে ডাকছে।
আমি: মাকে ডাকছে,তোমাকে তো না।
মা: তুই যা তো উপরে।আর গিয়ে তোর বাবাকে এখানে পাঠিয়ে দে।উনি এসে ডাক্তার আনলে আনবে।
ধূর!আমি মাকে ও হাতছাড়া করলাম।
ছেলে নেই বলে যে কোন ছেলেরেই নিজের সন্তান ভাবা ওনার অনেক আগের রোগ...
বাসায় গিয়ে বাবাকে পাঠিয়ে দিলাম।
সন্ধ্যা হলো,যেহেতু জ্বর তাহলে আজ আর পড়াতে আসবেনা।
তাই আমি কানে ইয়ারফোন গুঁজে গল্পের বই পড়তে বসলাম...
"রবীন্দ্রনাথ এর মহামায়া"
যে চেয়ারে ইকবাল বসে সে চেয়ারে পা রেখে টেবিল এর উপর বসে পড়ছি আর পা নাড়াচ্ছি।
এর মাঝেই ইকবাল হাজির..
আমি তড়িঘড়ি করে নামলাম।আমি নামার সাথে সাথেই উনি চেয়ারে বসলো..
আমি: আপনার না জ্বর?
ইকবাল: এখন একটু সুস্থ।
আমি মুখ বাকিয়ে পড়তে বসলাম।
এর মাঝে মা এসে কি যে বাবা-বাবা শুরু করে দিল..
আমার বাবার চেয়েও মা বেশি ফিদা হয়ে গেছে মনে হচ্ছে।
আমায় মা ডাক দিয়ে ভিতরে নিল, আমি গেলাম মা বলে, তুই পড় আমি ইকবাল এর জন্য সামনের দোকান থেকে কিছু খাবার নিয়ে আসি...
বেচারা এই জ্বরের মাঝে এসেছে.
আমি: মা এই জঙ্গির কাছে রেখে যাবা?
মা: যা পড়তে বস..
মা চলে গেল..
ইকবাল বার বার কাশি দিচ্ছে আর আমায় বহুপদী সমীকরন বুঝাচ্ছে।
তবুও বুঝানো থামাচ্ছেনা।
কিন্তু মা যাবার ১০মিনিট এর ভিতর ই বিদ্যুৎ চলে গেল.....
চলবে...
লিখেছেন:- Umme Nipa


Comments

Popular posts from this blog

গল্প- অবৈধ বিয়ে পর্ব ১

তুমিময় অসুখ পর্ব- ১০ (অন্তিম)

তুমিময় অসুখ পর্ব- ৮