বাড়িওয়ালার রাগী মেয়ে পর্বঃ ২
ওই আমি কি তোর টিচার আর তুই আমার স্টুডেন্ট যে তোরে আমি হাতে মারবো।
রবিঃ তুমিই তো বলতে বললা।
রিধিঃ তোরে তো...
রবিঃ এই শুনো
রিধিঃ বল
রবিঃ খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা। তোমাকে আরও আগেই বলা উচিত ছিলো কিন্তু ভুলে গিয়েছিলাম। এইমাএ হঠাৎ মনে পড়লো।
রিধিঃ তাড়াতাড়ি বল
রবিঃ খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা। সবাই একসাথে আসো তারপর বলছি।
রিধিঃ আচ্ছা। এখন বল
রবিঃ সবাই একসাথে হয়েছো তো?
রিধিঃ হ্যা।
রবিঃ বলছি তাহলে
রিধিঃ মাথাটা কিন্তু গরম হয়ে যাচ্ছে তুই বলবি
রবিঃ বলছি তো। শুনো, কথাটা হলো আমি এখন পালিয়ে যাবো এটা বলেই উসাইন বোল্ট হয়ে গেলাম। এক দৌড়ে সীমানার বাইরে মানে সেইফ জোনে
আমারে আর কে পায়। কি বাঁচাটাই না বাঁচলাম। সবই কপাল
বুঝলাম না Accounting এ পড়া মেয়েরা তো অনেক সহজ- সরল হয়। এরা অনেক ভদ্র হয়। আর সবসময় চসমা পড়ে থাকে। পুরাই নিষ্পাপ
কিন্তু এই মেয়ের মধ্যে তো তার বিন্দুমাএ নেই। ছেলেদের যেভাবে মারে তাতে ওর WWE তে যাওয়া উচিত ছিলো আর রোন্ডা রাউজির সাথে মারামারি করা উচিত ছিলো। আমার তো মনে হয় এই মেয়ে ওরেও হারিয়ে দিবে।
দৌড়াতে দৌড়াতে পরিচিত একটা চায়ের দোকানে আসলাম। অনেক হাপিয়ে গেছি। কুকুরে তাড়া করলেও এতো কষ্ট হয় না।
কুকুরের কামড় তাও সয্য করে নিতাম কিন্তু রিধির মাইর সয্য করতে পারবো না। কি মারটাই না মারে ও। মনে একটুও দয়া মায়া নেই।
বিয়ের পর যে কি হবে আল্লাহ ই জানে। ভাবছি ওরে পটামু কিভাবে। আজকেই youtube এ মেয়ে পটানোর ভিডিও দেখতে হবে।
আমার এমন অবস্থা দেখে দোকানদার মামা বললো,
--- কি হয়েছে মামা? কুকুরে তাড়া করেছে বুঝি?
রবিঃ আগে পানি খেয়ে নেই তারপর বলছি। পানি খাওয়ার পর লম্বা একটা নিশ্বাস নিয়ে বললাম,
কুকুরে তাড়া করলে হয়তো বেঁচে যেতাম কিন্তু এখন তো বাঁচার আর কোনো উপায় নেই।
--- কি হইছে মামা?
রবিঃ বাড়িওয়ালার ওই গুন্ডি মেয়েটা আমার পিছনে পড়েছে।
-- হাহা। তাইলে তো তোমার কপালে খারাপ কিছু আছে মামা। কিন্তু একটা ব্যাপার বুঝলাম না
রবিঃ কি?
-- সে তো শুধু শুধু কাউরে কিছু বলে না। নিশ্চয় তুমি বড় কিছু করছো তার সাথে।
রবিঃ আর বইলো না ভালোবাসার কথা বলছিলাম। কিন্তু ওর মনে কোনো অনুভূতি নাই। ১০/১২ টা মেয়ে নিয়ে রাস্থায় আমারে আটকিয়ে রাখছে। অনেক কষ্টে বেঁচে আসছি।
তা না হলে এতোখনে আমার হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকতে হতো। এখন ৩/৪ দিন আর রিধির সামনে যাওয়া যাবে না।
-- তা কি করে হবে মামা? তোমরা তো একিই বিল্ডিং এ। আর সে তো তোমাদের বাড়িওয়ালার মেয়ে।
রবিঃ সেটা নিয়েই তো চিন্তায় আছি। বাসা দিয়েই বের হওয়া যাবে না। কারন বাসায় থাকলে রিধি কিছু বলতে পারবে না।
চা- সিগারেট দেও মামা। তাড়াতাড়ি খেয়ে বাসায় যাবো। কখন আবার রিধি চলে আসবে তার ঠিক নেই।
দুপুরে সবাই মিলে খেতে বসেছি তখন বাবা বললো,
বাবাঃ খাওয়ার সময় ছাড়া তো তোর দর্শন পাওয়া যায় না। কোথায় থাকোস সারাদিন? পড়ালেখাও তো করিস না।
রবিঃ কি বলো বাবা। আমি তো অনেক পড়ালেখা করি। আর ফাস্ট ইয়ারে থাকতেই যদি এতো প্রেশার নেই।
বাবাঃ হইছে আর যুক্তি দিতে হবে না। রেজাল্টেই বুঝা যাবে তুই কি পড়ালেখা করিস।
বিকালে রিধির আগেই বাসা থেকে বের হলাম। বন্ধুদের কল দিয়ে লেকেড় পাড়ে আসতে বললাম।
রিদয়ঃ কি হলো মারছিস কেনো?
রবিঃ শালা তোর জন্য কি দৌড়ানিটাই না খাইছি। একটুর জন্য বেঁচে গিয়েছি।
রিদয়ঃ কি হয়েছে সেটা বলবি তো
রবিঃ রিধি ওর গ্যাং নিয়ে আমার সামনে আসছিলো সবার হাতে হকিস্টিক ছিলো। অনেক কষ্টে বেঁচে গিয়েছি। কলেজে তোর ওই ফালতু আইডিয়ার জন্য এসব হয়েছে
রিদয়ঃ শালা এছাড়া কি আর কোনো উপায় ছিলো। রিধি কি তোরে এমনি এমনি ভালোবাসবে। তুই ওকে না বললে ও কি তোকে এসে বলবে।
রবিঃ কি মেয়েরে বাবা। ওরে কিভাবে পটানো যায় সেই আইডিয়া দে।
রিদয়ঃ আমি পারুম না। পরে কিছু হলে আমার দোষ দিবি। তুই নিজে যা ইচ্ছা কর।
রবিঃ শালা তা বললে তো আর হবে না। আমার প্রেম যদি সফল না হয় তোর আর প্রেমার রিলেশনও আমি সফল হতে দিমু না।
রিদয়ঃ তুই বন্ধু না শত্রু। তোর রিলেশন না হলে আমি কি করতে পারি?
রবিঃ যেভাবেই হউক রিধিকে পটাতে হবে। তুই, সাকিব আর রাসেল তোরা তিনজনে পটানোর উপায় বলবি। তা না হলে তোদের রিলেশনও থাকবে না।
রাসেলঃ শালা তুই এমন একটা মেয়ের সাথে রিলেশন করতে চাচ্ছিস যারে দেখলেই তো আমাদের সবার ভয় করে। কি আর উপায় বলবো।
সাকিবঃ ভাই আমি সানজিদারে অনেক ভালোবাসি। তুই উল্টা- পাল্টা কিছু করিস না।
রবিঃ করবো না। তাইতো বলছি রিধিকে পটানোর উপায় বল।
রাতে বাসায় আসলাম। খেয়ে ছাদে গেলাম। আতিফ আসলামের গান শুনছি আর ভাবছি।
হঠাৎ কেও এসে বললো,
-- তা এখন কি পালানোর জন্য ছাদ থেকে লাফ দিবি?
রবিঃ রিধিরে দেখে তো আমার হার্টবির্ট বন্ধ হয়ে গেলো। আজকে আমি শেষ। এই মেয়েরে বিশ্বাস নেই আমাকে ছাদ থেকেও ফেলে দিতে পারে।
রিধি রাগীভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আর আমি ওরে দেখে ক্রাশ খাচ্ছি।
Comments
Post a Comment