বাড়িওয়ালার রাগী মেয়ে পর্বঃ ৪

 আর তোর প্রেমারে বলবি বাংলা সিনেমা না দেখতে। এরকম একটা ফালতু আইডিয়া কেবল তোর গার্লফ্রেন্ডেরই মাথায় আসে

রিদয়ঃ ভাই ও বাংলা সিনেমার অন্ধ ভক্ত। ওর জন্য আমাকেও প্রতিদিন একটা করে বাংলা সিনেমা দেখতে হয়।
ওরে যদি বলি, বাংলা সিনেমা না দেখতে তাইলে আমারে শেষ কইরা ফেলবে। ব্রেকআপ ও করতে পারে।
রবিঃ ওরে বলবি এসব ফালতু আইডিয়া না দিতে। এখন চল। রিধি কি করে তা দেখে আসি। কি হলো আসছিস না কেনো?
সাকিবঃ ভাই ওর সামনে গেলে তো আর অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসতে পারবো না
রবিঃ ধুর শালা। ওর সামনে কে যাবে। আমরা তো দূর থেকে দেখবো।
রিধিঃ ওই ফাজিল ছেলেটাকে দেখেছিস?
দিশাঃ কার কথা বলছিস?
রবিঃ কার আবার রবির কথা বলছি। ওরে রাতে বলছি আজকে কলেজে সবাইকে সত্তিটা বলতে কিন্তু ও আরও উল্টা- পাল্টা বললো
ওরে যদি হাতের সামনে পাই তাহলে মাথা ফাটিয়ে ফেলবো। আমার সাথে ফাইজলামি
রাসেলঃ ভাই শুনছিস ওরা কি বললো। তুই যদি ওদের সামনে পরো তাহলে কি হবে ভেবে দেখেছিস?
রবিঃ এতো ভাবার কি আছে। রিধি আমারে সামনে পাইলে হাসপাতালে পাঠাবে সেটা নিশ্চিত থাকতে পারিস।
রিদয়ঃ তোর সাথে যদি আমরা থাকি তাহলে আমাদের কি হবে?
রবিঃ তোরাও হাসপাতালে থাকবি।
রিদয়ঃ ধুর শালা ভয় দেখাস না। পৃথিবীতে এতো মেয়ে থাকতে এই মেয়েটাই তোর লাগবে কেনো? ভালোবাসা তো দূরে থাক এই মেয়ে তো তোর সাথে কথাই বলে না।
রবিঃ একদিন ঠিকই বলবে। দেখবি ও নিজে এসে আমাকে ভালোবাসার কথা বলবে।
রাসেলঃ কিভাবে এতো নিশ্চিত হয়ে বলতে পারিস?
রবিঃ কারন এটাই সাইন্স
রিদয়ঃ ধুর শালা সবসময় শুধু ফাইজলামি।
-- আসসালামুআয়ালাইকুম ভাবি
রিধিঃ ওই দাঁড়া। ভাবি বললি কারে তুই?
-- আপনারে?
রিধিঃ ওই আমার তোর ভাইয়ের সাথে বিয়ে হইলো কবে?
-- আমার ভাইয়ের সাথে না তো। রবি ভাইয়ের সাথে হয়েছে। রবি ভাই গতকাল কলেজে সবাইকে বললো আপনাকে ভাবি বলতে।
রিধিঃ রবিইইই তোরে যদি এখন সামনে পাইতাম। ওই বদমাইশ ছেলেটা মিথ্যা বলছে। আর একবার যদি আমায় ভাবি বলিস তাহলে মাথা ফাটিয়ে দিবো
-- সরি ভাবি
রিধিঃ আবার
--- সরি।
রিদয়ঃ দেখেছিস রিধি কতটা রেগে আছে।
রবিঃ বাসায় যাই এখন। বিকালে দেখা হবে।
রিদয়ঃ যদি বেঁচে থাকিস তাহলে হবে
রবিঃ চুপ শালা।
বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে খেতে বসলাম। খাওয়ার পর লম্বা একটা ঘুম দিলাম। বিকালে ঘুম থেকে উঠলাম।
রাতে বাসায় এসে কাউকে দেখতে পেলাম না। গেলো কোথায় সব। মনে হয় রিধিদের বাসায় গেছে।
আমিও যাই। এই সুযোগে রিধিকেও দেখতে পারবো। আমি যাওয়ার পরই আন্টি বললো,
আন্টিঃ এই তোর আসার সময় হলো। এতো দেঁড়ি করলি কেনো?
রবিঃ কিসের দেঁড়ি কিছুই বুঝলাম না।
আন্টিঃ আজকে আমাদের বাসায় রাতে খাবার কথা ছিলো না তোর। কত মেহমান আসছে আর তুই এখন আসলি। বস আমি খাবার দিচ্ছি।
রবিঃ হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারছি না। মা তোমরা আমায় বললে না কেনো?
মাঃ মনে ছিলো না।
রবিঃ এইটা কোনো কথা। যদি আমি না আসতাম তাহলে কি হতো?
মাঃ কিছুই হতো না।
সবার শেষে এসে নিজেকে এলিয়েন মনে হচ্ছে। খাবার শেষে বসে আছি। বড়োরা কথা বলছে আর আমি শুনছি।
হঠাৎ কেও এসে মেহমানদের সালাম দিলো
রবিঃ ও মা গো! ভুত দেখার মত চমকে উঠলাম। এ আমি কারে দেখছি। এটাও কি সম্ভব।
যে মেয়েরে শার্ট,প্যান্ট পরা ছাড়া দেখি নাই সেই মেয়ে বোরকা পরে আছে তাও বাসার ভিতরে। এটা
হাইস্যকর
মাঃ কি হলো চেঁচিয়ে উঠলি কেনো?
রবিঃ ভাবছি শয়তান ছাঁড়া পেলো কবে?
মাঃ মানে? কিসব উল্টা- পাল্টা বলছিস?
রবিঃ তুমি বুঝবে না। যার বুঝার সে বুঝে গেছে।
রিহি আমার দিকে রাগীভাবে তাকিয়ে আছে মনে মনে হয়তো এটা বলছে যে, আমারে সামনে পেলে বুঝাবে শয়তান ছাঁড়া পেলে কি হয়।
বসে বসে উপদেশ শুনছি। একদম বিরক্ত হয়ে গেছি। এতো ফালতু প্যাচাল কে শুনতে পারে। তাদের এই সব কথা শুনে আমার এখন সিগারেট খেতে ইচ্ছা করতেছে।
যাই ছাদে যাই। সবাই তো এখানে রয়েছে ছাদে হয়তো কেও থাকবে না।
ছাদে আসে একটা সিগারেট ধরালাম। মনের সান্তিতে সিগারেট খাচ্ছি আর আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি।
হঠাৎ কেও ফোনে কথা বলতে বলতে ছাদে আসতে লাগলো। সিগারেটটা ফেলে দিলাম।
রিধিঃ ওই তুই ছাদে কি করিস?
রবিঃ কিছুনা। তুমি কার সাথে কথা বলছিলে?
রিধিঃ যার সাথেই বলি না কেনো তোকে কেনো বলতে হবে।
রবিঃ হ্যা আমাকেই বলতে হবে।
রিধিঃ দেখ মাথাটা গরম করিস না তো। এখনই ছাদ থেকে চলে যা।
চলবে----

লেখকঃ Rabi Al Islam



Comments

Popular posts from this blog

গল্প- অবৈধ বিয়ে পর্ব ১

তুমিময় অসুখ পর্ব- ১০ (অন্তিম)

তুমিময় অসুখ পর্ব- ৮