বাড়িওয়ালার রাগী মেয়ে পর্বঃ ৬
তোর কথায় তো ভরশা করতে পারছি না। তোর এক প্লানের জন্য সেই দৌড়ানি খাইছি। মন বলছে এবারও সেইরকম কিছু হবে। কিন্তু কি আর করার এছাড়া তো আর কোনো উপায় নাই।
কলেজে সবসময় শুধু রিধিকে ফলো করছি। যেখানে ও সেখানেই আমি। রিধি ওর বন্ধুদের সাথে কথা বলছে আর আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি।
রিধি আমার কাছে এসে বললো,
রিধিঃ আমায় ফলো করছিস কেনো?
রবিঃ আমি কাউকে ফলো করছি না।
রিধিঃ চুপ। আবার মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে। মার পরলেই ফলো করা ছুটে যাবে।
রবিঃ হাহা তুমি আমাকে মারতে পারবে না সেটা যানো তারপরও এরকম কথা কেনো বলো? তোমার মুখে এরকম কথা শুনতে আমার ভালো লাগে না।
আর আমি কি বোকার বোকা এতদিন শুধু শুধুই তোমাকে ভয় পেয়ে এসেছি। এখন থেকে আর সেটা হবে না।
রিধিঃ মানে? কি বলতে চাচ্ছিস তুই?
রবিঃ পুরো দুনিয়ার কাছে তুমি রোন্ডা রাউজি হলেও বাসায় তো ঠিকই ভদ্র মেয়ের মত থাকো। আর বাসায় যদি যানতে পারে তুমি রোন্ডা রাউজি তাহলে কি হবে ভেবে দেখেছো?
রিধিঃ ব্লাকমেইল করছিস?
রবিঃ এরকম কথা বলো কেনো আমার কষ্ট হয় না বুজি। আমি তোমাকে ব্লাকমেইল করতে পারি বলো।
রিধিঃ উফ! বিরক্তিকর একটা। তুই যাবি এখান থেকে।
রবিঃ যেতে তো চাই কিন্তু মন তো মানছে না। একবার বলো ভালোবাসি, চলে যাবো হাসি- খুশি।
রিধিঃ থাক তুই। আমিই চলে যাচ্ছি।
১০ দিন পর।
রিধিকে সবসময় বিরক্ত করি কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে বলে আমার মনে হয় না। আমার তো মনে হয় রিধি এখন আমার উপর অনেক রেগে আছি।
কালকে রিধির জন্মদিন ওকে সারপ্রাইজ দিতে হবে। অনেক মেহমান আসছে রিধিদের বাসায়। কলেজেও আসছে না রিধি।
রাতে রিধিদের বাসায় গেলাম। কিন্তু কোথাও খুজে পাচ্ছি না ওকে। ছাদে গেলাম রিধিকে খুজার জন্য। রিধি আর ওর কাজিনরা ছাদে আড্ডা দিচ্ছে।
হঠাৎ দেখলাম রিধি একটা ছেলের সাথে হাত ধরে কথা বলছে। মাথাটাই গরম হয়ে গেলো। রিধির কাছে গিয়ে বললাম
রবিঃ ওর হাত ধরেছো কেনো?
রিধিঃ তোর সমস্যা কি? আমার ইচ্ছা হয়েছে তাই হাত ধরেছি।
--- ছেলেটা কে রিধি?
রিধিঃ আমাদের বাসার ভাড়াটিয়া।
-- ওরা ভাড়াটিয়া হয়ে তোমার সাথে এরকম ব্যবহার করছে কেনো?
রবিঃ তোমার সমস্যা কি? তুমি চুপ করো
-- ওই আবার উল্টা- পাল্টা কথা বলিস। তোর বাবা- মা শিক্ষা দেই নি। নাকি বাড়িওয়ালার মেয়েকে পটিয়ে বাড়ি হাতিয়ে নিতে চাস।
রবিঃ মাথাটা একদম গরম হয়ে গেলো। ওর কর্লার ধরে বললাম, ওই মুখ শামলিয়ে কথা বল
রিধি আমাকে থাপ্পর মেরে বললো,
রিধিঃ এতদিন সয্য করেছি কিন্তু আর না। তোকে আমি ভালোবাসি না তারপরও আমার পিছু নিস কেনো? সবসময় আমায় বিরক্ত করিস। আর কখনও আমায় বিরক্ত করবি না।
রবিঃ বিরক্ত তো দূরের কথা তোর মুখই দেখবো না। তোকে ভালোবাসি তারমানে এই নয় যে নিজের আত্নসম্মান ভুলে তোকে ভালোবাসবো।
এখানে আমার কোনো দোষ ছিলো না। ওই ছেলেটাই উল্টা- পাল্টা বললো আর তুই ওকে কিছু না বলে আমাকে বলছিস।
লাগবে না তোর ভালোবাসা। আমি এতটাও পাগল নই যে, তোর ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে যাবো। আজকের পর আর তোকে বিরক্ত করবো না।
২ দিন পর
রিদয়ঃ কলেজে আসলি না কেনো?
রবিঃ ভালো লাগছিলো না। কি ভাবে ও নিজেকে। আমি ওর জন্য পাগল থাকবো। ও যা বলবে সবকিছু সয্য করবো
সাকিবঃ কি হয়েছে?
ওদেরকে রিধির সাথে ঘটা সব কিছু বললাম।
রবিঃ সবার সামনে অপমান করলো। দরকার নেই এমন ভালোবাসার।
সাকিবঃ থাক বাদ দে। এখন বল পরবর্তি প্লান কি?
রবিঃ কোনো প্লান নেই এখন তো শুধু পার্টি হবে।
কি হয়েছে সবাই এভাবে তাকিয়ে আছিস কেনো?
রিদয়ঃ না কিছু না
রবিঃ ওকে ভুলে গেছি। আগে যেমন ছিলাম তেমনই থাকবো। অন্যদের মত ছ্যাকা খেয়ে কষ্ট পাওয়ার মানুষ আমি না।
আর ওর জন্মদিনে তো বাসায় থাকা যাবে না। তাই আজকেই কোথাও যাবো। ২/৩ দিন পর আসবো।
বাসায় বসে আছি। হঠাৎ আংকেল, আন্টি আসলো। তারা বললো রিধির জন্মদিনের সব দায়িত্ব আমার। আমিও কোনো কিছু না ভেবেই বলে দিলাম পারবো না। আমি একজাগায় যাবো। কিছু কাজ আছে আর কাজটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ
আমার এরকম কথা শুনে তো আমার বাবা- মা অনেক অবাক হয়েছে। আংকেল,আন্টি যাওয়ার পর আমায় বললো
মাঃ কি কাজ আছে তোর?
রবিঃ কিছুনা।
মাঃ তাহলে তাদের কেনো বলছিস যে থাকতে পারবি না?
রবিঃ এমনি
মাঃ কাল পর্যন্ত তো রিধিকে বিরক্ত করতি আর আজকে ওরই জন্মদিনে থাকতে চাইছিস না। কি হয়েছে বলতো?
রবিঃ কিছু হয়নি। এখন থেকে আর বিরক্ত করবো না।
Comments
Post a Comment