বাড়িওয়ালার রাগী মেয়ে পর্বঃ ৯ ( শেষ )

 সমস্যা ওই রবির মাথায় আছে। যা হচ্ছে সব ওই বদমাইশ ছেলেটার জন্যই হচ্ছে। ও সবসময় আগে আমার সাথে ঝগড়া শুরু করে।

দিশাঃ তাহলে তুই তোর কাজিনদের সামনে ওকে থাপ্পর মারলি কেনো?
রিধিঃ আমি কি ইচ্ছা করে মারছি নাকি। এটা তো অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়ে গেছে।
মিমঃ তাহলে রবির কাছে সরি বললি না কেনো?
রিধিঃ আমি কেনো সরি বলবো?
দিশাঃ ধ্যাত।
১০ দিন পর।
এই ১০ দিনে মোটামুটি হায়াতিকে পটিয়ে ফেলেছি। আজকে ওকে আমাদের ক্যাম্পাসে আসতে বলেছি। রিধিকে আমার গার্লফ্রেন্ড দেখাতে হবে
হায়াতির হাত ধরে ক্যাম্পাসে হাঁটছি রিধিকে দেখানোর জন্য। রিধি আমাদের দিকে রাগীভাবে তাকিয়ে আছে।
কিছুখন পর ও একটা ছেলের হাত ধরে আসলো। ছেলেটাকে দেখে মনে হচ্ছে রিধি ওকে জোর করে নিয়ে আসছে। পুরাই মদন লাগছে।
রবিঃ হাহা এই মদনটা তোর বয়ফ্রেন্ড। দেখে তো মনে হচ্ছে কোথাও থেকে জোর করে ধরে এনেছিস।
রিধিঃ চুপ কর। তোর গার্লফ্রেন্ড এর মত তো আর নয়। একটা ছেলের হাত ধরে ক্যাম্পাসে হাঁটছে লজ্জা করে না
রবিঃ কেও আমারে বিষ দেও খাইয়া হাসপাতালে চইলা যাই। আমার গার্লফ্রেন্ড আমার হাত ধরবে না তো কি তোর বয়ফ্রেন্ড ওর হাত ধরবে
আমার ফ্রেন্ড আর রিধির ফ্রেন্ডরাও চলে আসছে। রিধি তো সেইরকম জব্দ হয়েছে। মুখ দিয়ে কোনো কথাই বের হচ্ছে না।
হঠাৎ হায়াতি বললো,
হায়াতিঃ যাচ্ছি আমি
রবিঃ যাচ্ছি মানে? কোথায় যাচ্ছো?
হায়াতিঃ আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে যাবো
রবিঃ তো আমি কে?
হায়াতিঃ কেও না
রবিঃ বিশ্বাস করেন রাসেল ভাই এর জন্য একদমই প্রস্তুত ছিলাম না। সবার সামনে এই মেয়ে বলে কি।
আমি শেষ। এমনটা হবে কল্পনাও করি নাই। ১০ দিন এই মেয়েটার পিছনে ব্যয় করেছি আর এই মেয়ে এভাবে তার প্রতিদান দিলো। সবিই কপাল আমার।
হায়াতিঃ হঠাৎ ব্লক খুললা আমার তো সন্দেহ হচ্ছিলো। তারপর যখন আমাকে পটানোর চেষ্টা করলা তখন তো নিশ্চিত ছিলাম।
রবিঃ তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে আগে বললে না কেনো?
হায়াতিঃ হাহা তাহলে তো এই মজাটা পেতাম না। এখন সবার সামনে তুমি হেরে গেলে।
রবিঃ তোরও ব্রেকআপ করিয়ে দিবো।
হায়াতিঃ হাহা আমি তোমার মত বোকা না। আমার বয়ফ্রেন্ডকে আগেই বলেছি সব।
রবিঃ আমার ১০ দিন ফেরত দে
হায়াতিঃ আমার বিয়েতে এসে গিফট দিয়ে খেয়ে যেয়ো। যাচ্ছি আমি। ভালো থাকবা।
হায়াতি তুই সবার সামনে আমার সাথে এমনটা করতে পারলি। সবাই হাসাহাসি করছে। রিধি বললো,
রিধিঃ তা কোথায় যেনো তোর গার্লফ্রেন্ড? আমি তো দেখেই বুজেছিলাম। তোর সাথে পৃথিবীর কোনো মেয়ে প্রেম করবে না।
রবিঃ তোর সাথেও কোনো ছেলে প্রেম করবে না। এই মদন যা তো এখান থেকে।
রিধিঃ কোথাও যাবে না।
রবিঃ ওই যাবি না মার খাবি। হাহা দেখলি তোর বয়ফ্রেন্ড। ভয় পেয়ে চলে গেলো।
দুজনেই চুপচাপ আছি কেও কিছু বলছি না। কিছুখন পর চলে আসলাম।
২ দিন পর।
বাসায় বসে আছি। হঠাৎ আমাদের বাসায় রিধি আর ওর সাথে একটা মেয়ে আসলো। আম্মুর সাথে কথা বলে ওরা চলে গেলো।
ওরা যাওয়ার পর ছোটবোনকে জিগ্গেস করলাম মেয়েটার কথা। ও বললো মেয়েটা রিধির কাজিন। তাড়াতাড়ি ছাদে গেলাম। রিধির কাজিনরেই পটাতে হবে তাহলেই ও বুঝবে।
সময়টা মনে হয় ভালো যাচ্ছে। ছাদে গিয়ে মেয়েটাকে একাই পেলাম। এই সুযোগ রিধি নেই এখন। মেয়েটার সাথে কথা বলা যাক।
মেয়েটার কাছে গিয়ে বললাম,
রবিঃ কেমন আছেন?
-- ভালো। আপনি কেমন আছেন?
রবিঃ আমি তো সবসময়ই ভালো থাকি।
-- আপনাকে তো চিনতে পারলাম না।
রবিঃ নিচের বাসার ভাড়াটিয়া। বাড়িওয়ালা আংকেল আমাকে খুব ভালো জানে। আসলে আমি ভালো তো তাই
রিধিঃ কত যে ভালো তা আমি জানি। তুই এখানে কি করিস? একটুও ভালো হলি না।
রবিঃ মান- সম্মান বুজি গেলো। রিধি আসার আর সময় পায়নি। এমনি পরিচিত হতে আসলাম।
রিধিঃ লাগবে না তোর পরিচিত হওয়া। রুহি চলো তো। নদীর পাড়ে ঘুরতে যাবো
রবিঃ আমিও যাবো।
রিধিঃ মানে?
রবিঃ না মানে তোমরা দুইটা মেয়ে যাবা যদি কোনো সমস্যা হয় তাই যেতে চাচ্ছিলাম।
রিধিঃ আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। তোর যাওয়ার কোনো দরকার নেই।
৫ দিন পর।
রুহির সাথে প্রতিদিন কথা বলি আর রিধি সেটা সয্য করতে পারে না। ওরে দেখানোর জন্য আরও বেশি করে কথা বলি।
একদিন ছাদের উপর রুহির হাত ধরে কথা বলছি। হঠাৎ রিধি চলে আসলো। কোনো কিছু না বলেই থাপ্পর মেরে চলে গেলো।
তার কিছুদিন পর রুহি ওদের বাসায় চলে গেলো। কলেজ ক্যাম্পাসে একটা মেয়ের সাথে কথা বলছি। হঠাৎ রিধি এসে আমার শার্টের কর্লার ধরে বললো,
রিধিঃ ওই তুই এতো খারাপ কেনো?
রবিঃ আমি আবার কি করলাম?
রিধিঃ কি করিসনি সেটা বল। প্রথমে হায়াতি তারপর রুহি এখন এবার এই মেয়ে। তুই এতো লুইচ্চা কেন বলতো।
রবিঃ আমি কথা বললে তোর কি?
রিধিঃ বলবি না কথা।
রবিঃ কথা না বললে মেয়ে পটাবো কি করে?
রিধিঃ আমি থাকতে অন্য মেয়ের সাথে কথা বলতে গেলে তোকে মেরে ফেলবো।
রবিঃ তুই তো আমাকে ভালোবাসিস না তাহলে শুধু শুধু তোর পিছনে কেনো সময় নষ্ট করবো।
রিধিঃ ওই তোরে কে বললো আমি তোকে ভালোবাসি না।
রবিঃ কত যে ভালোবাসো তা তো জানি।
রিধিঃ চুপ। প্রপোজ কর এখন
রবিঃ আমি কেনো করবো? তুই কর
রিধিঃ ওই হকিস্টিক নিয়ে আয় তো
রবিঃ আরে করছি তো। আবার হকিস্টিক কেনো।
I love you
রিধিঃ আমিও।
রবিঃ আমিও কি
রিধিঃ I love you
বলেই রিধি আমায় জড়িয়ে ধরলো। আমি তো অনেক আগে থেকেই তোকে ভালোবাসি। তুই আমার পিছু নিতিস, বিরক্ত করতিস এগুলো ভালো লাগতো আমার। ওইদিন অনিচ্ছাকৃতভাবে একটা থাপ্পর মেরেছি তারপর আর বিরক্ত করতিস না। জানিস কতটা কষ্ট পেয়েছি আমি।
রবিঃ হাহা আমি তো জানতাম। তাইতো তোকে দেখানোর জন্যই এসব করেছি যাতে তুই ভালোবাসার কথা বলিস। রুহিও এটা জানতো।
রিধিঃ আর কখনও কোনো মেয়ের সাথে কথা বলবি না।
রবিঃ শুধু তোর সাথে বলবো।
রিদয়ঃ যাক বাবা অবশেষে তোর অত্যাচার থেকে বাঁচলাম। এখন তাড়াতাড়ি ট্রিট দিস।
রবিঃ আচ্ছা তুমি কি আগের মত গুন্ডিই থাকবে
রিধিঃ না। ভালো হয়ে যাবো।
রবিঃ না। গুন্ডিই থাকবা। আর প্রতিদিন দৌড়ের উপর রাখবা। এই গুন্ডি মেয়েটাকেই অনেক বেশি ভালোবাসি।
সমাপ্ত।
( গল্পটা কেমন হয়েছে রেটিং দিয়ে কমেন্টে জানাবেন। ভালো থাকবেন সবাই। ধন্যবাদ)



Comments

Popular posts from this blog

গল্প- অবৈধ বিয়ে পর্ব ১

তুমিময় অসুখ পর্ব- ১০ (অন্তিম)

তুমিময় অসুখ পর্ব- ৮