বাড়িওয়ালার রাগী মেয়ে পর্বঃ ১
সিগারেট খেয়ে নাক দিয়ে ধোঁয়া ছাড়ছি এমন সময় কল আসলো। রিসিভ করার পর কোনো মেয়ের মধুর কন্ঠে শুনতে পেলাম, অসভ্য,লুইচ্চা,ফাউল পোলা তোরে হাতের সামনে পাইলে যে কি করতাম
--- দুঃখিত আপনি ভুল নাম্বারে কল করেছেন। এটা বলেই কল কেঁটে দিলাম।
আজকালকার মেয়েদের জন্য আমার মত সহজ- সরল ছেলেরা একদম নিরাপদ নেই। চারদিকে শুধু ছেলেদের উপর অত্যাচার আর অত্যাচার।
মাঝে মাঝে এসবের জন্য অনশন করতে মন চায় কিন্তু ক্ষুধার জন্য পারি না।
কি মেয়েরে বাবা কল দিয়ে কোনো কথা নেই,বার্তা নেই গালাগালি শুরু। এরকম ভয়ংকর মেয়ের সামনে যেনো না পড়তে হয়।
সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছি আর হাঁটছি। হঠাৎ সামনে কিছু একটা দেখলাম।
৪ টা মেয়ে হকিস্টিক হাতে নিয়ে রাস্থা আটকিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ওইদিকে যাওয়া আমার জন্য নিরাপদ নয়।
পিছনে ঘুরে যেতে লাগলাম। কিন্তু যার কপালে আজকে মাইর লেখা আছে তা আর কে ঠেকায়। আরও ৪ জন্য হকিস্টিক হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
মাইনকা চিপায় পড়ে গেলাম। না পারছি সামনে যেতে আর না পারছি পিছনে যেতে। দুইদিক থেকে মেয়ে গুন্ডারা আমায় ঘিরে রেখেছে।
হিরো আলমের সেই নোবেল বিজয়ী সংলাপটার কথা মনে পড়ছে। হে আল্লাহ আমারে তুমি উঠায়ে নেও, উঠায়ে নেও।
হঠাৎ মুখ দিয়ে সিগারেটের ধোয়া বের হলো, তার ভিতর থেকে শার্ট, ছেড়া প্যান্ট পড়া কোনো সুন্দরি রমনি বেরিয়ে আসলো। কখন যে সিগারেটটা হাত থেকে পড়ে গেছে খেয়ালই করিনি।
মনের ইচ্ছা মত ক্রাশ খেতে লাগলাম। ভাবছি এরকম একটা মেয়ে যদি আমার আম্মাজানের বেটার বউ হতো!
কিন্তু মেয়েটাকে কেনো জানি পরিচিত লাগছে। মনে হচ্ছে আগেও দেখেছি। দেখা- দেখি বাদ কল্পনার জগতে চলে গেলাম।
--- দেখা হয়েছে?
--- ধুরো যা তো বিরক্ত করিস না তো।
ও আম্মাজান। এই জন্যই তো বলি পরিচিত কেনো লাগছে। আজকে আমি শেষ। জানি না কতদিন হাসপাতালে থাকতে হবে।
সেই সুন্দরি রমনি আর কেও না সে হলো আমার দশ না পাঁচটা না একটা মাএ ক্রাশ। এই মহল্লার লেডি মাস্তান, বাড়িওয়ালার একমাএ কন্যা রিধি রহমান।
রবি - রিধি। আমার নামের সাথে কত মিল। এর জন্য শ্বশুর মশাই একটা ধন্যবাদের প্রাপ্য।
এই মেয়েরে দেখলেই তো আমার হার্টবির্ট বন্ধ হয়ে যায়। শুধু তাকিয়ে থাকতে মন চায়।
রিধিঃ তা কোন জাগায় মারবো তোকে?
রবিঃ মনে, মানে কোনো জাগায় না। মারামারি কি ভালো দেখায় তুমিই বলো
রিধিঃ হ্যা অনেক ভালো দেখায়। তুই কলেজে সবাইকে কি বলেছিস?
রবিঃ কি যেনো বলেছিলাম?
রিধিঃ আমি তোর মাথায় মারতেছি তখন এমনিতেই সব মনে করতে পারবি।
রবিঃ এই দাঁড়াও মনে করতেছি।
Flashback
কলেজ ক্যাম্পাসে বাইকের উপর বসে সিগারেট খাইতেছি আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেছি। নিজেরে K.G.F সিনেমার হিরো লাগতেছে। চুল দাঁড়িও ওইরকমভাবে কেঁটেছি।
এইরকম আর কতদিন সিংগেল থাকবো। তোরা আমার বন্ধু হয়েও কিছু করতে পারলি না।
সাকিবঃ শালা সবাইরে তো দেখাও তুমি রকি ভাই আর রিধির সামনে গেলেই হাওয়া বেরিয়ে যায় তোমার।
রবিঃ কি আর করবো ওই মাইয়া তো সবসময় ১০/১২ টা মেয়ে নিয়া ঘুরাঘুরি করে। আর সবার হাতে হকিস্টিক থাকে। কিছু বললেই তো মাইর শুরু করবে।
আর ওরে দেখলেই তো আমার ভয় করে। সবসময় রাগী একটা ভাব করে থাকে। এই মাইয়ারে আমি কোনো সময় হাসতে দেখি নাই। তারউপর আবার ও বাড়িওয়ালার মেয়ে।
রিদয়ঃ তাইলে কি আর করার। তুই এভাবে বাইকের উপর বসে সিগারেট খেতে থাক। একদিন দেখবি রিধি তোদের বাসায় ওর বিয়ের কার্ড নিয়ে আসছে। তখন গিফট দিয়ে খেয়ে আসিস।
রবিঃ ধুর শালা। শুধু উল্টা- পাল্টা বলিস। রিধির বিয়ে তো আমার সাথেই হবে আজ অথবা কাল।
সাকিবঃ তার আগে তো রিধিকে তোকে ভালোবাসতে হবে। আর ভালোবাসতে হলে তো আগে রিধিকে প্রপোজ করতে হবে তোর।
রবিঃ ভয়টা তো সেখানেই। আজ পর্যন্ত যতজন ওরে প্রপোজ করছে সবাই হাসপাতালে গেছে।
রিদয়ঃ তো কি হইছে তুইও যাবি হাসপাতালে।
রবিঃ শালা তুই বন্ধু না শত্রু। কিছু একটা প্লান কর যাতে শাপও না মরে আর লাঠিও না ভাঙ্গে।
রিদয়ঃ একটা উপায় আছে।
রবিঃ তাড়াতাড়ি বইলা ফালা।
রিদয়ঃ প্রপোজ তুই না করে অন্য কারও মাধ্যমে রিধিকে বল যে তুই ওরে ভালোবাসিস।
রবিঃ কিভাবে?
রিদয়ঃ ক্যাম্পাসে কিছু জনরে বলে দে তুই আর রিধি একে অপরকে ভালোবাসিস আর কিছুদিন পর তোদের বিয়ে। আর ওরা তখন এটা নিয়ে আলোচনা করতে থাকবে এক পর্যায়ে রিধিও জানতে পারবে
রবিঃ আচ্ছা তাই করতেছি।
রিধিঃ কি হলো মনে পড়লো?
রবিঃ রিদয়রে তোরে যদি হাতের সামনে পাইতাম এখন।
রিধিঃ তাড়াতাড়ি বল কিভাবে মারবো তোরে?
রবিঃ হাতে।
Comments
Post a Comment